যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ব্যর্থ হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা সত্ত্বেও ‘আগামী দুই দিনের মধ্যেই’ নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। মঙ্গলবার নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি নিশ্চিত করেন, আলোচনার ভেন্যু একই থাকবে। তা হলো পাকিস্তান। তিনি বলেন, সম্ভবত আমরা আবার সেখানেই ফিরব। এমন কোনো দেশে কেন যাব, যার এ বিষয়ে কোনো সম্পর্কই নেই?
ট্রাম্প পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনিরের প্রশংসা করে বলেন, তিনি চমৎকার এবং দারুণ কাজ করছেন। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ইসলামাবাদে আলোচনায় ফিরবে। এর আগে ট্রাম্প বলেন, ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানে ফিরবে না। কিন্তু পরে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে নতুন আপডেট দেন।
রিপাবলিকান এই নেতা আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইউরোপের কোনো দেশ মধ্যস্থতাকারী হতে পারে। যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, তুরস্ক কি সম্ভাব্য ভেন্যু। জবাবে তিনি বলেন, ‘না, আরও কেন্দ্রীয় কেউ। হয়তো ইউরোপ।’ তিনি আবারও ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করে বলেন, তারা সাহায্য করতে চাইলেও ‘কীভাবে করতে হয় তা জানে না। তারা কিছুই করছে না, শুধু মিটিং করছে। তারা সেখানে যেতে চায়, কিন্তু কীভাবে করতে হবে জানে না। তারা কাগুজে বাঘ।’
সোমবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, অন্য পক্ষ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তারা একটি চুক্তির জন্য আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্টজেডি ভ্যান্স জানান, ইসলামাবাদের শান্তি আলোচনায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দিকে কিছুটা অগ্রসর হয়েছে এবং এখন তেহরানেরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, আমি বলব না যে সবকিছু খারাপ হয়েছে। অনেক কিছুই ভালো হয়েছে। আমরা অনেক অগ্রগতি করেছি।
ভ্যান্স আরও বলেন, তারা আমাদের দিকেই এগিয়েছে, তাই আমরা বলছি ইতিবাচক কিছু ইঙ্গিত রয়েছে। কিন্তু তারা যথেষ্ট দূর এগোয়নি।
এই আলোচনায় ভ্যান্সের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনার।
অপরদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।
রবিবার ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার সরাসরি বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। ফলে দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে। এই আলোচনায় যুদ্ধবিরতি এগিয়ে নেয়ার পথ নিয়ে আলোচনা হয়। যা গভীর মতপার্থক্য এবং লেবাননে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের চলমান হামলার কারণে হুমকির মুখে রয়েছে। আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালি। যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি প্রধান পথ। ইরান কার্যত এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। আর যুক্তরাষ্ট্র তা পুনরায় চালু করার অঙ্গীকার করেছে। এছাড়া ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়ও আলোচনায় ছিল।
একজন পাকিস্তানি সরকারি সূত্র রয়টার্সকে বলেন, আলোচনার মাঝামাঝি সময়ে একটি বড় অগ্রগতির আশা জেগেছিল এবং দুই পক্ষ চুক্তিতে পৌঁছাবে বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়।

